সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা চালানোর সময় ওই বৃদ্ধকে নির্যাতন করা হয় এবং তার একমাত্র 'অপরাধ' ছিল,তার ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে,এখানে,এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে এর পুরোনো সূত্র পাওয়া যায়। জাতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদনে ভিডিওটির একই দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, "কক্সবাজারে বৃদ্ধকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, আটক ৩"।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি গাজীপুরের নয়; বরং ২০২০ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে ঘটেছিল। সেখানে ৭১ বছর বয়সী নুরুল আলমকে একটি খোলা মাঠে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ তিনজনকে আটক করে।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৪ মে ঈদের কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি নুরুল আলমকে ইজিবাইক থেকে জোর করে নামিয়ে খোলা মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তার লুঙ্গি ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে তাকে বিবস্ত্র করা হয় এবং মারধর ও গালিগালাজ করা হয়। পুরো ঘটনাটি উপস্থিত কয়েকজন মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
ঘটনার পর চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কচির ঘটনাটিকে "অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক" আখ্যা দিয়ে জানান, অভিযুক্ত আনছুর আলমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরে জেলা যুবলীগের নির্দেশনায় তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আনছুর আলম সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, জমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।
অর্থাৎ, বর্তমানে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলার সময় এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের দাবিতে যে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। ভিডিওটি ২০২০ সালে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংঘটিত একটি ঘটনার, যেখানে অভিযুক্ত ছিলেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা আনছুর আলম ও তার সহযোগীরা। ফলে ভিডিওটিকে গাজীপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।