⚠️ বিভ্রান্তিকর (Misleading)

‘নামাজ পড়লে ১০ মার্ক কম’ শিক্ষকের বক্তব্যে ‘না’ শব্দটি বাদ পড়েছিল

T

Team BC

⚠️ বিভ্রান্তিকর (Misleading)
‘নামাজ পড়লে ১০ মার্ক কম’ শিক্ষকের বক্তব্যে ‘না’ শব্দটি বাদ পড়েছিল

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, এক শিক্ষক বলেছেন, নামাজ পড়লে শিক্ষার্থীদের ১০ নম্বর কম দেওয়া হবে। প্রচারিত ভিডিওতে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, “আমি ধর্মীয় শিক্ষককে বলেছি, যে সমস্ত স্টুডেন্ট নামাজ পড়বে তাদের ১০ মার্ক করে কম দেয়া হবে।”


এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।


তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওতে শোনা বক্তব্যটি শিক্ষকের অনিচ্ছাকৃত ভুলের অংশ। বক্তব্যের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, তাঁর নিজের ফেসবুক পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যম কালবেলার প্রতিবেদনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়, তিনি মূলত নামাজ না পড়লে শিক্ষার্থীদের ১০ নম্বর কম দেওয়ার কথা বলতে চেয়েছিলেন। কথা বলার সময় ভুলবশত ‘না’ শব্দটি বাদ পড়ে যায়।


ভিডিওতে থাকা শিক্ষক বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শিরিন হক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায়। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি নামাজ নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নামাজ বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন।


সমর কৃষ্ণ রায়ের প্রায় ৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যটি তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়। বক্তব্যের ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের দিকে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “তোমাদের প্রতি আমার একটাই অনুরোধ, এখানে নামাজের সুব্যবস্থা রয়েছে। সব ব্যাচ তোমরা প্রতিদিন এখানে নামাজ পড়বা। আমি ধর্মীয় শিক্ষককে বলেছি, যেসব স্টুডেন্ট নামাজ পড়বে না, তাদেরকে ১০ মার্ক করে কম দেওয়া হবে। কারণ এখানে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”


এর পরের বক্তব্যেও তিনি শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমি যদি তোমাদের নামাজের দিকে ধাবিত করতে পারি... এই বয়সটা কিন্তু ভুল বা অসৎ পথে যাওয়ার সময়। তোমরা নামাজ পড়লে এই পথ থেকে পরিত্রাণ পাবা।” এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, “ফেসবুকে বা বিভিন্ন জায়গায় কত খারাপ কাজ দেখি, কিন্তু আমাদের মেয়েরা অটল। আমাদের মেয়েরা কোনো খারাপ পথে চলে না, আমি তোমাদের নিয়ে গর্ববোধ করি মা।”


অর্থাৎ, পুরো বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সমর কৃষ্ণ রায় শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়তে উৎসাহিত করার কথাই বলছেন। কিন্তু ১০ নম্বর কম দেওয়ার বিষয়টি বলার সময় তিনি মুখে “যেসব স্টুডেন্ট নামাজ পড়বে, তাদেরকে ১০ মার্ক করে কম দেওয়া হবে”—এমন বাক্য বলেন। বক্তব্যের পরবর্তী অংশ বা অন্য কোনো জায়গায় “নামাজ পড়লে” ১০ নম্বর কম দেওয়ার কথা তিনি পুনরায় বলেননি।


এদিকে, সমর কৃষ্ণ রায়ের নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ভিডিওর ক্যাপশনেও তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমি শিরীণহক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্য ছিল এ রকম। কথা বলতে গেলে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। (slip of tongue)। আপনারা সম্পুর্ন ভিডিও দেখলে আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলটা বুঝতে পারবেন। আমি এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।”


এ ছাড়া কালবেলার প্রতিবেদনে সমর কৃষ্ণ রায়ের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, তিনি নামাজ না পড়লে পরীক্ষায় ১০ নম্বর কম দেওয়ার কথা বলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ‘না’ শব্দটি বাদ দিয়েছেন এবং এ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


সুতরাং, “নামাজ পড়লে শিক্ষার্থীদের ১০ নম্বর কম দেওয়া হবে” এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে শিক্ষকের বলা কথাটি হুবহু ঠিক হলেও এটি তাঁর উদ্দেশ্যপূর্ণ বক্তব্যের অর্থ প্রকাশ করে না। তিনি বক্তব্যের সময় ভুল করে “না” শব্দটি বাদ দিয়ে “নামাজ পড়লে” বলে ফেলেছিলেন। তাঁর পুরো বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তীতে নিজের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিনি আসলে নামাজ না পড়লে শিক্ষার্থীদের ১০ নম্বর কম দেওয়ার কথা বলতে চেয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র (Sources & References)

আরও পড়ুন