⚠️ বিভ্রান্তিকর (Misleading)

বিমানবন্দরে প্রবাসীকে মারধরের পুরনো ভিডিও সাম্প্রতিক দাবি করে প্রচার

T

Team BC

⚠️ বিভ্রান্তিকর (Misleading)
বিমানবন্দরে প্রবাসীকে মারধরের পুরনো ভিডিও সাম্প্রতিক দাবি করে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমানবন্দরে এক প্রবাসীকে হেনস্তা ও মারধরের একটি ভিডিও প্রচার করে ঘটনাটি সাম্প্রতিক বলে দাবি করা হচ্ছে। ‘আপডেট টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করে ক্যাপশনে বলা হয়, “প্রবাসীদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতনের শেষ কোথায়? বিমানবন্দরে মারধরের ঘটনায় তোলপাড়।”


একই ভিডিও ‘Face the Muslim’ নামের একটি পেজ থেকেও প্রচার করা হয়। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়, “বিএনপির শুয়োরের বাচ্চারা এসব দেখ।” এসব পোস্টের মাধ্যমে ঘটনাটি সাম্প্রতিক বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে।


তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের একটি পুরনো ঘটনার ভিডিও।


ভিডিওটির কয়েকটি কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একই ভিডিও জাতীয় দৈনিক সমকালের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। সমকালের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছিল।


সমকালের প্রতিবেদন ও পরবর্তী অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম সাঈদ উদ্দিন। তিনি নরওয়ে প্রবাসী। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের বিরোধের পর মারধরের ঘটনা ঘটে।


ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাত সোয়া ৯টার দিকে নরওয়ে প্রবাসী সাঈদ উদ্দিন বিমানবন্দরের ২ নম্বর ক্যানোপি গেট দিয়ে বের হয়ে আসেন। গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক এভসেক সদস্যের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাঈদ ওই নিরাপত্তাকর্মীকে ধাক্কা দেন।


এরপর কয়েকজন এভসেক ও আনসার সদস্য তাকে কনকর্স হলের দিকে নিয়ে যান। সেখানে সাত-আটজন মিলে তাকে মারধর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে তার মাথা ও মুখ ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাকে ও তার আত্মীয়স্বজনদের আবারও বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। গভীর রাতে সাঈদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।


অর্থাৎ, বিমানবন্দরে নরওয়ে প্রবাসী সাঈদ উদ্দিনকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনাটি সত্য। তবে ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়, এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঘটে। ফলে পুরনো এই ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।


এছাড়া, ভিডিওটি যে সময়ের, তখন বাংলাদেশে বিএনপি সরকারে ছিল না। ঘটনাটি ঘটে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে। তাই পুরনো ঘটনাটির ভিডিওকে বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে প্রচার করে এর সঙ্গে বিএনপি সরকারকে যুক্ত করার দাবিও সঠিক নয়।


সুতরাং, বিমানবন্দরে প্রবাসীকে হেনস্তা ও মারধরের সত্য ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, তবে সেই ঘটনার পুরনো ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভিডিওটি সাম্প্রতিক বিএনপি সরকারের আমলের ঘটনা, এমন ইঙ্গিতও বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র (Sources & References)

আরও পড়ুন