সম্প্রতি নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে । ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, শাকিল ইসলামকে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। একইসঙ্গে আবদুল আজিজকে দলীয় ও সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায় , ভিডিওটি আসল নয়। মূলত প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের ভিডিও ব্যবহার করে তাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন ভয়েস যুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌরশহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায়। ওই রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালের আঘাতে আহত শাকিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৬ অক্টোবর রাতে ঢাকায় মারা যান। এ ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে শাকিলের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। তবে ভিডিওটির মূল অডিও ও দাবিকৃত বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
ভিডিওটির ভয়েস বিশ্লেষণ করে হাইভ মডারেশন এটিকে ৯৩.১ শতাংশ সম্ভাবনায় এআই-নির্মিত ভয়েস হিসেবে শনাক্ত করেছে। অর্থাৎ ভিডিওতে শোনা প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠটি মূল ভিডিওর স্বাভাবিক অডিও নয়; বরং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে দলীয় বা সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ভিডিওতে এআই-নির্মিত ভয়েস যুক্ত করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।